ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
সরকারের শিক্ষানীতিমালকে তোয়াক্কা না করে তারাগঞ্জে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অবৈধভাবে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ।

সরকারের শিক্ষানীতিমালকে তোয়াক্কা না করে তারাগঞ্জে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অবৈধভাবে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ।

তারাগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারের শিক্ষা নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে তারাগঞ্জের আলমপুর প্রামানিকপাড়া রহিমীয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অবৈধভাবে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ম্যানেজিং কমিটির লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসাটি ১৯৭৮ সালে স্থাপিত হইয়া ১৯৮৪/৮৫ সালে ঢাকা মাদ্রাসা বোর্ড থেকে অত্র মাদ্রাসার একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা/প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাহার পৈত্রিক রেকর্ডীয় জমিতে নিজ খরচে প্রামানিক পাড়ায় হবিবরের খুলিতে মাদ্রাসার টিনের চালার ঘর তৈরি করে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছেন। বহু চেষ্টা, তদবির করেও শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় ও সরকারি কোন অনুদান ও ভাতাদি না পাওয়ায় আস্তে আস্তে মাদ্রাসাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। মাদ্রাসাটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এলাকার কিছু অসাধু ভাই-ভাতিজাদের কু-পরামর্শে উক্ত মাদ্রাসাটিকে নতুনভাবে এমপিও ভূক্ত করার লোভ দেখিয়ে মান্নান মাস্টারের জামাতা সাইফুল ইসলাম ও তার একমাত্র মেয়ে মাসরুফা অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ বানিজ্যে মেতে ওঠে।

শিক্ষক নিয়োগের জন্য ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। উক্ত রেজুলেশনে হাজী আব্দুল হামিদ কে সভাপতি/সহ-সভাপতি দেখান। অথচ হাজী আব্দুল হামিদ মাদ্রাসার সদস্য ছাড়া অন্য কোন পদে ছিলেন না। প্রকৃত সহ-সভাপতি ছিলেন হবিবার রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার অদ্যবধি সভাপতি আছেন। অথচ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কোন সদস্য, ঐ ৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়নি এবং শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা এবং কোন সভার সিদ্ধান্ত ও সমর্থন করেননি। তারা ঘরে বসে গোপনে ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ করে, যোগদান পত্র ও নিয়োগ রেজুলেশন কপি তারাগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বরাবর জমা দেন। তা জানিয়া ম্যানেজিং কমিটির প্রধান সদস্য মো: কুদরুতউল্লাহ, সদস্য কামরুজ্জামান ও আলমগীর হোসেন বহু চেষ্টা করে শিক্ষা অফিস থেকে ঐ জাল কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করে।

উপরে উল্লিখিত ৫ জন অবৈধ শিক্ষক হলেনঃ- প্রধান শিক্ষিকা – ১। মোছা: মাসরুফা, ২। সাইফুল ইসলাম, ৩। সাদিকুল ইসলাম, ৪। আমেনা খাতুন ও ৫। আব্দুল আজিজ। তাদের নিয়োগপত্র এবং নিয়োগ রেজুলেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমিনুর, একরামুল, নূর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম, মনসুর আলী, কেতাব উদ্দিন, হাজী উম্মে কুলসুম সহ আরও অনেকে লিখিত জবানবন্দি দেন যে, কোন দিন কোন সময়ে মাদ্রাসার কোন হল রুমে অর্থাৎ বিলুপ্ত হওয়ার মাদ্রাসার হল রুম না থাকা সত্তে¡ও মিথ্যা হলরুমে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে দেখিয়ে যে নিয়োগ রেজুলেশন দাখিল করেছেন তাহা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন, উপরোক্ত শিক্ষকগণকে কোন ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ দেয় নি।

প্রফেসর ড. হায়দার আলী জানান, আলমপুর মাছি পাড়া এলাকায় অত্র মাদ্রাসাটির নাম পরিবর্তন করিয়া ক্বওমি ও হাফীজিয়া মাদ্রাসা হিসাবে চালানোর জন্য উপরিউল্লিখিত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মাওঃ আবুল কালাম আজাদের নামে গত ১৩/০৭/২০১৫ইং তারিখে রেজিস্ট্রারী দলিল নং ২০৯৪ দানপত্র কবলা মূলে আমি লিখিয়া দিয়া ননজুডিশিয়াল একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারপত্র করি যে, বিগত ২০০৪ সালে উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি সেক্রেটারী বরাবরে ওয়াক্ফ নামা যে দলিলটি দেয়া হয়েছিল, দুঃখের বিষয় উক্ত মাদ্রাসাটি একেবারেই বিলুপ্ত হওয়ায় আমার শ্রদ্ধেয় বড়ভাই আবুল কালাম আজাদকে কওমী মাদ্রাসা ও এক অংশে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চালানোর জন্য ঘর তৈরি করার অনুরোধ জানিয়ে নি¤œ তফসিল বর্নিত জমি হস্তান্তর করি। তাহা তিনি গত ২০২১ সালে খারিজ করিয়া নেন। এতে আমার এবং আমার পরিবারের পরিবার বর্গের কোন দাবি থাকিবে না, দাবি করিলেও সর্বাদালতে অগ্রায্য বলিয়া গন্য হইবে। এরপর থেকে আমার সহযোগিতায় ২০১৯ সালের শেষ দিকে নতুনভাবে টিনের চালার ৪টি শ্রেনী কক্ষ তৈরি করে স্কুল এবং মাদ্রাসা চালিয়ে আসছেন। সরকারী নির্দেশে করোনাকালীন সময় থেকে ২০২১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আজাদ সাহেব মাদ্রাসার প্রতিটি দরজায় তালা লাগিয়ে রাখেন।

প্রকৃত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, উক্ত দূর্বত্তরা মাদ্রাসাটির জমি ও মাদ্রাসাটি দখল করার জন্য হঠাৎ করে উক্ত অবৈধ ৫ জন শিক্ষক মাহবুব আলমের হুকুমে গত ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে মাদ্রাসার সকল দরজার তালা ভেঙ্গে মাদ্রাসার মূল্যবান কাগজপত্র, পতাকা ও ঘন্টা সহ তালাগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কমিটির নির্দেশে আমি তাদের বিরুদ্ধে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমুলী আদালতে সি আর ১৫১/২১ নম্বর মামলা দায়ের করি এবং রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এম আর ৫৯/২২ নং মামলা দায়ের করি। মামলা দুটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দুষ্কৃত ও ভন্ড জামাতা সাইফুল ইসলামের কারণে সামান্য একটি মাদ্রাসা নিয়ে ভাই ভাই দ্বন্দ সৃষ্টি ও সুনামধন্য পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে এরকম কর্মকান্ড দেখে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। তাই উর্দ্ধতন প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, সরজমিনে তদন্ত করে সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |