ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
শিবগঞ্জে সিন্ডিকেটের কব্জায় রাসায়নিক সার: নজরদারিতে প্রশাসন

শিবগঞ্জে সিন্ডিকেটের কব্জায় রাসায়নিক সার: নজরদারিতে প্রশাসন

মোহাঃ ইমরান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি >>> চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রাসায়নিক সার সিন্ডিকেটের কব্জার কারণে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে কৃষকরা। সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছেমত দাম হাকাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানের সার মজুদ আছে। কোন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রয় করতে পারবে না। তবে, অসাধু ও সিন্ডিকেটদের হাতেনাতে ধরতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আর যদি কেউ সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বেশি দাম নেয় তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ ও অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এদিকে, ডিলারগণ বলছেন, আমাদের নিকট যা সরকারী ভাবে সরবরাহ হচ্ছে, তাই আমরা কৃষকদের মাঝে সরকারি দরে সার বিক্রয় করছি। আর কৃষকদের অভিযোগ হলো বিশেষ করে পটাশ সার নিয়ে আমাদের সাথে ছলতাচুরী করা হচ্ছে।
উপজেলা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ডিলারদের কাছে পটাশ সহ অন্যান্য সার চাহিদা মত না পাওয়ায় এখানে ওখানে ছুটাছুটি করছে। খোলা বাজারে পটাশ সার কিনতে গিয়ে ১৫’শ টাকা হতে ১৮’শ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। কারণ আমের গাছে সার দেয়ার এখনই উপাযুক্ত সময়। কিছুদিন পর আর সার প্রয়োগ করা যাবে না। সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়ার বস্তা প্রতি ১১’শ টাকা, ডিএপি বস্তা প্রতি ৮’শ টাকা, পটাশ বস্তা প্রতি ৭৫০ টাকা, টিএসপি বস্তা প্রতি ১১’শ টাকা। কিন্তু ডিলারগণ কৃষকদের বাধ্য করছে ৩ বস্তা ডিএপির কেনার পর ১বস্তা পটাশ দিচ্ছে। কোন কোন ডিলার মাত্র ৫/১০ কেজি পটাশ দিচ্ছে।


গোপন সূত্রে জানা গেছে, ডিলাররা গোপনে খোলা বাজারের দোকানদারদের নিকট বেশি দামে পটাশ বিক্রি করছে। দোকানদাররা আবার সে পটাশ সার কৃষকের কাছে বস্তা প্রতি ১৭’শ থেকে ১৮’শ টাকা দরে বিক্রি করছে। এছাড়া অধিকাংশই খুচরা সার বিক্রেতাদের কোন লাইসেন্স নাই বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রানীনগরের জনৈক কৃষক জানান, আমাদের গ্রামের দোকানদার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ডিলারের নিকট হতে পটাশ সার ১৩’শ, ১৪’শ টাকা দরে কিনে এনে আমার কাছে নিয়েছে ১৮’শ টাকা নিয়েছে। নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ডিলার কৃষকদেরকে মাত্র ৫/১০ কেজি করে পটাশ সার দিচ্ছে এবং বলছেন সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা মত পটাশ সার দিতে পারছি না। একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রায় শতাধিক কৃষকের।


মোবারকপুর, দাইপুখুরিয়া, শাহবাজপুর, কানসাট, চককীর্ত্তিসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিলারদের আড়তের সামনে কৃষকরা পটাশ সারের জন্য কৃষকরা সারিবন্ধভাবে প্রখর রৌদ্রে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ডিলারদের লোকজন কৃষকদের নিকট হতে আইডি কার্ড ও মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে মাত্র সর্বাচ্চো ২৫কেজি পটাশ সার দিচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে কৃষি বিভাগের লোকজনকে তদারকি করতে দেখা গেছে। এছাড়া চাহিদা মত সার না পাওয়ায় কৃষকও ডিলারের লোকজন কথাকাটাকাটি করছে। এর ফাঁকে এক শ্রেণীর লোকজন সরকারের ভাবমর্তি নষ্ট করতে নানা মুখি কথা বলে কৃষকদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছে। কৃষি বিভাগের লোকজন বলছে আমরার শুধু দর তদারকি করছি।

অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগ হলো কৃষি বিভাগের লোকজন না আসা পর্যন্ত আমাদের সার না দিয়ে চরম ভাবে হয়রানী করছে। বিভিন্ন স্থানের কৃষকদের আরো অভিযোগ হলো সরকারি ডিলারগণই নয় খোলা বাজারের দোকানদাররাও বিভিন্ন কোম্পানীর সার নিতে বাধ্য করছে। যান গুণগত মান অনেক কম।


এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে সারের কোন সংকট নাই। সার পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ আছে। চলতি মাসের চাহিদাকৃত সার বিতরণ শেষ হলে আগামী মাসে চাহিদা বাড়িয়ে বরাদ্ধ বেশির জন্য আবেদন করা হবে। শোনা যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছে সারের দাম বেশি হচ্ছে। যা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অগোচরে। তাই এসব তথ্যের ভিত্তিতে উপ-সহকারি অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রতিটি ডিলারদের সাথে থেকে সার বিতরণ করতে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী উপ-সহকারিদের উপস্থিতিতে সার বিক্রয় করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়নে ১৫জন, ১টি পৌরসভাতে ১জন ও ৫জন বিএডিসির মোট ২১জন ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। যারা প্রতিটি আড়তে সরকারি মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখাসহ সব ধরনের সরকারি নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য। তিনি আরো বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী সকল সার বিক্রেতাগণ সার বিক্রয় করবে। সার নিয়ে কোন কারসাজি চলবে না। আমরা উপজেলার প্রতিটি ডিলারের আড়তে গিয়ে ও সরাসরি কৃষকদের সাথে কথা বলে প্রমান করেছি যে শুধু পটাশ নয়, কোন সারের দামই বেশি নেয়া হয়নি। তবে পটাশের ক্ষেত্রে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সরবরাহ বেড়ে কৃষকদের চাহিদা মত সব ধরনের সার দেয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি বিক্রয় কেন্দ্রে ক্রেতাদের তালিকা রেজিষ্ট্রার বদ্ধ করতে বলা হয়েছে।###

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |