ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
শিবগঞ্জে পদ্মার গর্ভে ৪৬টি বাড়ি \ হুমকির মুখে ৩ শতাধিক বাড়ি-প্রতিষ্ঠান

শিবগঞ্জে পদ্মার গর্ভে ৪৬টি বাড়ি \ হুমকির মুখে ৩ শতাধিক বাড়ি-প্রতিষ্ঠান

মোহাঃ ইমরান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ >>> চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার গর্ভে প্রায় ২ ঘন্টার মধ্যে ৪৬টি বাড়ি-ঘর বিলীন হয়েছে। আর হুমকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নদী ভাঙনের প্রবণতা আর সাধারণ মানুষদের আহাজারী। নদীর গর্ভে বাড়ি-ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন অনেকে। আবার মাথা গুচার ঠাঁইয়ের জন্য অনেকে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছেন।


এদিকে নদী ভাঙনের কবলে পড়া শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের মৃত জোহর আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ জানান, মাত্র ২ঘন্টার ব্যবধানে প্রায় ৪৬টি বাড়ি পদ¥ার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তার মধ্যে ২৬টি বাড়ির মালিক এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাকী ২০টি পরিবার ভাঙ্গনের কারণে অন্য স্থান থেকে এসে এখানে বাড়ি করেছিল। আমার ১০বিঘা বসতের ৪/৫বার ভাঙনের কবলে পড়ে আগেই প্রায় সাড়ে ৯বিঘা বিলীন হয়েছে। এবার বাকী সবটুকুই বিলীন হয়ে গেলো। আমার ৮টি ছেলের ৮টি বাড়ি সহ সবকিছুই বিলীন হয়ে এখন খোলা আকাশের নীচে বাস করছি। চেষ্টা করছি কারো জমি বর্গা নিয়ে অস্থায়ীভাবে বাড়ি তৈরী করবো।


তিনি আরো বলেন, ঈদুল আযহার প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে সন্ধ্যার সময় ভাঙন শুরু হয়। মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যে ৪৬টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেলো। যা জীবনে আর কোনদিন দেখিনি।
এখলাকার দেলওয়ার হোসেন, মুক্তার হোসেন, আমরুল হক, জোবদুল হক জোহর আলি, খাইরুল ইসলাম সহ ওই গ্রামের প্রায় ২০/২৫জন বলেন, এখনো গ্রামের জামে মসজিদসহ প্রায় ২০/২২টি বাড়ি মাত্র ৬/৮ফুটের ব্যবধানে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আছে। ওই গ্রামের এনামুল হক বলেন, ভাঙ্গন রোধের কাজ চলছে, তবে ত্রæটিযুক্ত। যেখান থেকে কাজ শুরু করেছে তার উজানে প্রায় ৫/৬’শ মিটার ভাঙনের মুখে। এটা রোধ না হলে মনোহরপুর ৩০রশিয়া ও ঝোপপাড়া গ্রামের প্রায় ২’শ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কয়েকশ বিঘা জমি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর আগে মনোহরপুর ক্যাইঠাপাড়া গ্রাম বিলীন হয়েছে। তারা এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি। বারবার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও আমাদের কপালে এক ছটাক চাউলও জুটেনি। অত্যন্ত গরীব হওয়ায় ও আর কোন জমি না থাকায় কোথাও যেতে পারছি না। আমরা দুই মাস থেকে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও কেউ সাহায্যেও হাত বাড়াননি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপে ভাঙন রোধ হলে লোকজন আতংকের মধ্যে। ত্ইা কেউ কেউ বাড়ি ঘর অন্যত্রে সরিয়ে নিয়েছে। কারণ এখনো বন্যা বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ দ্রæত কাজ না হওয়ায় তাদের এ দুর্দশা। ওই গ্রামে গত ১আগষ্ট থেকে পদ্মা বাম তীর সংরক্ষন প্রকল্পের কাজ চলছে ধীর গতিতে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের চঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মবিন বলেন, ৬০লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৩টি প্যাকেজে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতি প্যাকেজে ৭৫ফিট করে মোট ২২৫ফিটের কাজ চলছে। কখন শেষ হবে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, একমাত্র ঠিকাদারই বলতে পারবেন। তবে আশা করছি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

মনোহপুরের কুপপাড়া গ্রামের সোহরাব আলী বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তিগুলো দিনে দিনে পদ্মার ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এই এলাকায় ছাড়া আর আমার কোথাও জায়গা জমি নাই। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো। পরের জমিতে ঘর তুলেছি। এ জমির মালিক এখন কিছু না বললেও, স্থায়ীভাবে তো আর জায়গা ছেড়ে দিবে না।
ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে বাড়ি ভেঙে মুন্সিপাড়ায় ঘর তুলেছেন তবজুল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই এলাকায় নদী ভাঙন নতুন কিছুই না। এর আগেও কয়েকবার ভাঙন থেকে বাঁচতে পূর্বের ভিটামাটি ছেড়ে এসেছি। আর কতবার এলাকা ছাড়লে, কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।
এব্যাপারে দূর্লভপুর ্ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মনোহরপুর কুপপাড়া সহ সব ভাঙন কবলিত এলাকার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তাদের কয়েকবার চাল দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার অনুদানের ব্যাপারে দূর্লভপুর ইউনিয়নে এখনো টাকা দেয়া হবে। তবে কাদের নাম তালিকা তা আমি সঠিকভাবে বলতে পারবো না।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান দিয়েছেন এবং সে তালিকা মোতাবেক অনুদান দেয়া হয়েছে। এ প্রসংগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুখলেশুর রহমান জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ও পাকা ইউনিয়নের ১০কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। তার মধ্যে মনোহর কুপপাড়াও তার ভাটিতে ৪৫০ মিটারে টিউবসিস্টেমের জি আর ব্যাগা দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছে। মনোহর কুপপাড়া যেখান থেকে কাজ শুরু হয়েছে তার উজাইের কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

বাকী বাকী ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে সরাসরি প্রধান মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। ইতিমধ্যে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ভাঙন রোধ রয়েছে। মনোহরপুর কুপপাড়ার উজানেও ভাঙন রোধে টিউব সিস্টেম জি আর ব্যাগ ফেলে সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত এলকার একটিও মানুষ যেন কষ্টে না থাকে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যা দ্রæত বাস্তবায়ন হবে।###

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |