ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
শিবগঞ্জে পদ্মার গর্ভে ৪৬টি বাড়ি \ হুমকির মুখে ৩ শতাধিক বাড়ি-প্রতিষ্ঠান

শিবগঞ্জে পদ্মার গর্ভে ৪৬টি বাড়ি \ হুমকির মুখে ৩ শতাধিক বাড়ি-প্রতিষ্ঠান

মোহাঃ ইমরান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ >>> চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার গর্ভে প্রায় ২ ঘন্টার মধ্যে ৪৬টি বাড়ি-ঘর বিলীন হয়েছে। আর হুমকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নদী ভাঙনের প্রবণতা আর সাধারণ মানুষদের আহাজারী। নদীর গর্ভে বাড়ি-ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন অনেকে। আবার মাথা গুচার ঠাঁইয়ের জন্য অনেকে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছেন।


এদিকে নদী ভাঙনের কবলে পড়া শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের মৃত জোহর আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ জানান, মাত্র ২ঘন্টার ব্যবধানে প্রায় ৪৬টি বাড়ি পদ¥ার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তার মধ্যে ২৬টি বাড়ির মালিক এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাকী ২০টি পরিবার ভাঙ্গনের কারণে অন্য স্থান থেকে এসে এখানে বাড়ি করেছিল। আমার ১০বিঘা বসতের ৪/৫বার ভাঙনের কবলে পড়ে আগেই প্রায় সাড়ে ৯বিঘা বিলীন হয়েছে। এবার বাকী সবটুকুই বিলীন হয়ে গেলো। আমার ৮টি ছেলের ৮টি বাড়ি সহ সবকিছুই বিলীন হয়ে এখন খোলা আকাশের নীচে বাস করছি। চেষ্টা করছি কারো জমি বর্গা নিয়ে অস্থায়ীভাবে বাড়ি তৈরী করবো।


তিনি আরো বলেন, ঈদুল আযহার প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে সন্ধ্যার সময় ভাঙন শুরু হয়। মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যে ৪৬টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেলো। যা জীবনে আর কোনদিন দেখিনি।
এখলাকার দেলওয়ার হোসেন, মুক্তার হোসেন, আমরুল হক, জোবদুল হক জোহর আলি, খাইরুল ইসলাম সহ ওই গ্রামের প্রায় ২০/২৫জন বলেন, এখনো গ্রামের জামে মসজিদসহ প্রায় ২০/২২টি বাড়ি মাত্র ৬/৮ফুটের ব্যবধানে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আছে। ওই গ্রামের এনামুল হক বলেন, ভাঙ্গন রোধের কাজ চলছে, তবে ত্রæটিযুক্ত। যেখান থেকে কাজ শুরু করেছে তার উজানে প্রায় ৫/৬’শ মিটার ভাঙনের মুখে। এটা রোধ না হলে মনোহরপুর ৩০রশিয়া ও ঝোপপাড়া গ্রামের প্রায় ২’শ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কয়েকশ বিঘা জমি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর আগে মনোহরপুর ক্যাইঠাপাড়া গ্রাম বিলীন হয়েছে। তারা এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি। বারবার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও আমাদের কপালে এক ছটাক চাউলও জুটেনি। অত্যন্ত গরীব হওয়ায় ও আর কোন জমি না থাকায় কোথাও যেতে পারছি না। আমরা দুই মাস থেকে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও কেউ সাহায্যেও হাত বাড়াননি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপে ভাঙন রোধ হলে লোকজন আতংকের মধ্যে। ত্ইা কেউ কেউ বাড়ি ঘর অন্যত্রে সরিয়ে নিয়েছে। কারণ এখনো বন্যা বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ দ্রæত কাজ না হওয়ায় তাদের এ দুর্দশা। ওই গ্রামে গত ১আগষ্ট থেকে পদ্মা বাম তীর সংরক্ষন প্রকল্পের কাজ চলছে ধীর গতিতে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের চঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মবিন বলেন, ৬০লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৩টি প্যাকেজে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতি প্যাকেজে ৭৫ফিট করে মোট ২২৫ফিটের কাজ চলছে। কখন শেষ হবে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, একমাত্র ঠিকাদারই বলতে পারবেন। তবে আশা করছি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

মনোহপুরের কুপপাড়া গ্রামের সোহরাব আলী বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তিগুলো দিনে দিনে পদ্মার ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এই এলাকায় ছাড়া আর আমার কোথাও জায়গা জমি নাই। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো। পরের জমিতে ঘর তুলেছি। এ জমির মালিক এখন কিছু না বললেও, স্থায়ীভাবে তো আর জায়গা ছেড়ে দিবে না।
ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে বাড়ি ভেঙে মুন্সিপাড়ায় ঘর তুলেছেন তবজুল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই এলাকায় নদী ভাঙন নতুন কিছুই না। এর আগেও কয়েকবার ভাঙন থেকে বাঁচতে পূর্বের ভিটামাটি ছেড়ে এসেছি। আর কতবার এলাকা ছাড়লে, কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।
এব্যাপারে দূর্লভপুর ্ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মনোহরপুর কুপপাড়া সহ সব ভাঙন কবলিত এলাকার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তাদের কয়েকবার চাল দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার অনুদানের ব্যাপারে দূর্লভপুর ইউনিয়নে এখনো টাকা দেয়া হবে। তবে কাদের নাম তালিকা তা আমি সঠিকভাবে বলতে পারবো না।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান দিয়েছেন এবং সে তালিকা মোতাবেক অনুদান দেয়া হয়েছে। এ প্রসংগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুখলেশুর রহমান জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ও পাকা ইউনিয়নের ১০কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। তার মধ্যে মনোহর কুপপাড়াও তার ভাটিতে ৪৫০ মিটারে টিউবসিস্টেমের জি আর ব্যাগা দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছে। মনোহর কুপপাড়া যেখান থেকে কাজ শুরু হয়েছে তার উজাইের কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

বাকী বাকী ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে সরাসরি প্রধান মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। ইতিমধ্যে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ভাঙন রোধ রয়েছে। মনোহরপুর কুপপাড়ার উজানেও ভাঙন রোধে টিউব সিস্টেম জি আর ব্যাগ ফেলে সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত এলকার একটিও মানুষ যেন কষ্টে না থাকে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যা দ্রæত বাস্তবায়ন হবে।###

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

বিনোদন

  • শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বিতর্কিত সিনেমা ‘পাঠান’। ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাবে এ সিনেমা। ২০ জানুয়ারি অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ১৮ জানুয়ারি থেকে। আর প্রথম দিনেই সিনেমাটির অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে। বক্স অফিস বিশ্লেষক অতুল মোহন এক টুইটে জানিয়েছেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে মোট ৯০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে পিভিআর: ৩৫ হাজার, আইএনওএক্স: ৩০ হাজার ও সিনেপোলিস: ২৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত। হিন্দুস্তান টাইমসকে অতুল মোহন বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে যদি অগ্রিম বুকিংয়ের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রি হয়, তাহলে মুক্তির আগের দিন এই বিক্রির পরিমাণ শীর্ষে ওঠে যাবে। তাই নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এটা সিনেমার জন্য ভালো লক্ষণ। সিনেপোলিস, পিভিআর এবং আইএনওএক্স-এর মতো হলগুলো ‘পাঠান’ সিনেমা পাঁচটির মধ্যে চারটি স্ক্রিনে দিয়েছে। আরেক বক্স অফিস বিশ্লেষক তরন আদর্শ এক টুইটে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাঠান সিনেমার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার। যার মধ্যে পিভিআর: ৫১ হাজার, আইএনওএক্স: ৩৮ হাজার ৫০০ ও সিনেপোলিস: ২৭ হাজার ৫০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে লিখেছের সুনামি লোডিং। শুক্রবার থেকে টিকিট বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে। বক্স অফিস বিশ্লেষক অক্ষয় রাঠি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন— ‘‘প্রথম দিনে ‘পাঠান’ সিনেমা আয় করবে ৩৫ কোটি রুপি। বুধবার (২৫ জানুয়ারি, মুক্তির দিন) কর্মব্যস্ত দিন হওয়া সত্ত্বেও এটি বড় প্রাপ্তি। আমার বিশ্বাস, ২৬ জানুয়ারি সিনেমাটি ৪৫ কোটি রুপি আয় করবে।’###

  • আঃ মজিদ খান, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। দিনটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও পেশার ভ্রমণপিপাসু মানুষ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আসেন। দিনভর নানা আয়োজনে মেতেছিলেন তারা। তবে খাবারের মান এবং হোটেল ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। তাদের দাবি, বিষয়টি স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে নেওয়া উচিত।কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ ঘুরেছেন লেম্বুর চর, গঙ্গামতি চর, ফাতরার বন, কাঁকড়ার চর ও রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেটসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় স্পটগুলো। কেউ কেউ উপভোগ করছেন সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য। কেউ আবার সেলফি তুলে, সমুদ্রে সাঁতার কেটে, ঘোড়ায় চড়ে স্মরণীয় করে রেখেছেন মুহূর্তগুলো। সবমিলিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় ১৮ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতটি মুখরিত হয়ে ওঠে।শুক্র ও শনিবার দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোববারের বড়দিনের ছুটি। টানা তিনদিনের ছুটি উপভোগ করতে ভ্রমণপ্রেমিরা ছুটে আসেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসতে শুরু করেন।এদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকদের আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলের ভাড়া এবং খাবারের মান। খাবারের অতিরিক্ত দাম ও হোটেলে গলাকাটা ভাড়া নেওয়ায় অভিযোগ করে পর্যটকরা বলছেন, বিষয়টি স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে নেওয়া উচিত।ঢাকা থেকে আগত ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কুয়াকাটা অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরা। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়। আমি এর আগেও একবার এখানে এসেছিলাম। তখন ব্যয় অনেক কম ছিল। কিন্তু এবার এসে দেখি সবকিছু বদলে গেছে। তিনি বলেন, এর আগেরবার যে হোটেল ভাড়া দিয়েছিলাম এক হাজার টাকা, এবার সেই হোটেল ভাড়া দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। খাবার হোটেলেরও একই অবস্থা। খাবারের মানের চেয়ে দাম অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। এসব পর্যটন এলাকার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এতে পর্যটন এলাকার ক্ষতি হচ্ছে।ঢাকা থেকে আগত আরেক পর্যটক ইসমাইল হোসেন বলেন, কুয়াকাটা অনেক সুন্দর। কিন্তু খাবারের মান ও দাম দেখে সবকিছু ম্লান হয়ে যাচ্ছে। খাবারের মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি। মান ভালো করে এবং দাম কমালে পর্যটকরা খুশি হতো এবং পর্যটকদের আগমন আরও বেড়ে যেত।এ ব্যাপারে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, বড়দিনের ছুটিকে ঘিরে কুয়াকাটা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। হোটেল-মোটেলের শতভাগ রুম বুকিং ছিল। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কুয়াকাটা জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক জানান, তিনদিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বড়দিনকে ঘিরে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য। কোনো নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। যে যেভাবে পারছে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ শোয়াইব মিয়া জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি এখানে যোগদান করেছেন। জানুয়ারিতে পর্যটকদের ভরা মৌসুমে কুয়াকাটায় অভিযান চালানো হবে এবং সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। কেউ নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।###

  • আঃ মজিদ খান, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ তিন দিনের সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিনেও শনিবার ২৪ ডিসেম্বর পর্যটকে টইটুম্বর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশাকে উপক্ষো করেই সকাল থেকে সৈকতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা। এদিকে, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করে চলেছে প্রশাসন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আগত পর্যটকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সৈকতের জিরো পয়েন্টে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে মেতেছেন। অনেকে আবার সেলফি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আবার অনেকেই বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ায় করে ছুটি চলেছেন। এছাড়া কুয়াকাটার চর বিজয়, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, ঝাউবন, শুটকি পল্লী, লেবুর বন ও তিন নদীর মোহনাসহ সবকটি পর্যটন স্পটে এখন পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা। পর্যটকদের এমন ভিড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাই অনেকটা খুশি ব্যবসায়ীরা।  এদিকে আজ রোববার পর্যন্ত বুকিং রয়েছে কুয়াকাটার শতভাগ হোটেল মোটেল। অনেক পর্যটক হোটেলের সিট না পেয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়দের বাসা বাড়িতে। কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে শুরু করে পৌরসভা পর্যন্ত যানযট লেগে থাকছে প্রায়ই। কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে কথা হয় পর্যটক তামান্না রহমানের সঙ্গে কথা হয় ডেইলি তালাশ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। সকাল থেকে বাচ্চারা সৈকতের বালিয়াড়িতে খেলাধুলা করছে। আমরা বেশ আনন্দ করছি।’ সাতক্ষীরা থেকে আসা অপর পর্যটক মিথিলা সাকিব বলেন, প্রিয় জনকে সঙ্গে নিয়ে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে সাগরের ঢেউ উপভোগ করা এক অন্যরকম অনুভ‚তি। সকাল থেকে বেঞ্চিতে বসে আছি। নানা বয়সের মানুষ দেখছি। কুয়াকাটায় এসে মনটা ভরে গেছে।’ কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক বলেন, ‘যে কোনো অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে সবকটি পর্যটন স্পটে আমাদের ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।’###

  • ডেইলি তালাশ ডেস্ক>>চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির ফেসবুকের একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দীঘির অভিযোগ, তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতির শিকার হয়েছেন। পরিচালকের বিরুদ্ধে তিনি কথা দিয়ে কথা না রাখার অভিযোগ করেছেন। এবিষয় নির্মাতা রায়হান রাফিও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘দীঘির উচিত টিকটক বাদ দিয়ে অভিনয়ে মনোযোগী হওয়া।তার ফিটনেসের দিকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। তাকে শুধু আমার সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিষয়টা এমন না, অন্যরা কেন তাকে সিনেমা থেকে বাদ দিল? নিশ্চয়ই তার কোনো ঘাটতি আছে।’ এদিকে পরিচালক রাফির এই মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মডেল-অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহ। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন- বাংলাদেশের রেকর্ড হয়ে থাকল! এইভাবে কোনো দিন কোনো বড় ডিরেক্টর, কোনো নায়িকাকে প্রকাশ্যে তার ফিগার নিয়ে অপমান করতে দেখিনি। উনি এমনভাবে কথা বলেছেন যেন ইন্ডিয়ান নির্মাতা করণ জোহর বা সঞ্জয়লীলা বানসালি হয়ে গেছেন। রায়হান রাফিকে ইঙ্গিত করে সুবাহ আরও বলেন, যে প্রেম করতে পারবে সেই ভালো নায়িকা, ভালো ফিগারের সুন্দরী নায়িকা!…… এটা কি ধরনের মিনিং!’  এই অভিনেত্রী আরও লেখেন- বর্তমান যুগে অনেক বড় বড় বলিউড এবং বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকারা অনেকেই টিকটক করেন।এভাবে একটা নায়িকাকে অপমান করা হলো বিষয়টা খুব কষ্টের তারপরও সে (দীঘি) ছোট থেকেই অভিনেত্রী আবার স্টারকিড। তিনটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে আছে। সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, তাকে অবশ্যই সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত ছিল তার। সুবাহ আরও লেখেন- চলচ্চিত্রের প্রযোজক পরিচালক মানে সিনেমার বাবা মা, ওনারা যদি এইভাবে এই ভাষায় অভিনেত্রীদের নিয়ে কথা বলে তাহলে বিষয়টা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। এইভাবে বডি শেমিং করা ঠিক হয়নি। আপনাদের সবার উচিত এই সব ফালতু মন মানসিকতার মানুষদের শিক্ষা দেওয়া। আমিও চলচ্চিত্রের একজন অংশ এবং আমিও একটা মেয়ে তাই বিষয়টি আমার খারাপ লেগেছে আর আমি পারসোনালি দিঘিকে অনেক পছন্দ করি। আমি কখনো কাউকে ছাড়ে কথা বলিনি এবং বলবও না আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে ওই ডিরেক্টরের কথাবার্তাগুলো। দিঘির জায়গায় হয়তো আমিও এ রকম বাজে ভাবে বডি সেভিং এর শিকার হতে পারি দুদিন পর! ওনার মতো ডিরেক্টর এর কাছে। দিঘির বাবা আমার ছবিতে আমার বাবা হয়েছিলেন অনেক ভালো মানুষ আর দিঘির মা অনেক নামকরা নায়িকা দোয়েল ছিলেন। দিঘি একটা অল্প বয়সের মা হারা মেয়ে।###

  • আঃ মজিদ খান, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তের সমুদ্রের তীরে জেগে ওঠা চর হেয়ারে সূর্যাস্তের অপরূপ। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এবং প্রশাসনের উদ্যোগের অভাবে অবহেলিত রয়ে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে ওঠা সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্রের নাম ‘সোনারচর’। পাশেই রয়েছে চর হেয়ার দ্বীপ ও জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত। সবুজ বনায়ন, পাখির কলরব, বন্যপ্রাণীর ঝাঁক, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়নাভিরাম প্রকৃতি সৌন্দর্যে ভরপুর এ সব চরাঞ্চল। কিন্তু এ সব চরাঞ্চলে যাতায়াতের নেই কোন মাধ্যম। স্থানীয় একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। কিন্তু তাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এছাড়া অসুস্থ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নেই কোন হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি, বন ও চরাঞ্চলে প্রকৃতি সৌন্দর্যে ভরপুর থাকলেও কোন কাজে আসছে না বলে স্থানীয়রা জানান। তাই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চরে নিয়মিত নদী খননেন মাধ্যমে লঞ্চ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি তাদের।মোঃ আলী হোসেন হাওলাদার নামের চরমোন্তাজ গ্রামের এক বাসিন্দা ডেইলি তালাশকে বলেন, ‘আমার বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজের ৭ নম্বর ওয়ার্ড। সাগরে মাছ ধরা আমাদের প্রধান পেশা। তবে অনেকেই কৃষি কাজ করেন। কিন্তু সাগরের লবণ পানির কারণে জমিতে তেমন ফসল হয় না। এলাকা থেকে আগে ঢাকা আসার কোন লঞ্চ ছিল না। গলাচিপায় এসে লঞ্চে উঠতে হতো।একদিন আগেই সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেলে ঢাকার লঞ্চ ধরতে হতো। এতে ঢাকা যেতেই দুইদিন চলে যায়। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। সাগরের মাছ পরিবহনে নেই তেমন ব্যবস্থা। এই এলাকায় অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে কিন্তু যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই।’ চরাঞ্চল উন্নয়নে লঞ্চ ও স্পিডবোট সার্ভিস চালুর দাবি জানান তিনি। চর হেয়ারে রয়েছে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ॥ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর উপজেলার সোনারচর ও চর হেয়ারে রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। কিন্তু যাতায়াতের কোন মাধ্যম না থাকায় এই সৈকতে কোন পর্যটক ও দর্শনার্থী নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জেলে নৌকায় মাধ্যমে চরে যাতায়াত করেন। কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই ফিরে আসতে হয় নৌকা না থাকার কারণে। এই চরে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার একর আয়তনের পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিশাল বনাঞ্চল, সমুদ্র তীরে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। এই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নগর থেকে বহু দূরের এই সৈকতের সৌন্দর্য এখনও অনেকের কাছেই অজানা। সোনারচর ও চর হেয়ারের আকর্ষণ যে কোন মানুষকেই কাছে টানে। এখানে পা না ফেললে এটা বোঝার উপায় নেই বলে দর্শনার্থীর জানান। মোঃ জহুরুল আলম নামে এক দর্শনার্থী  বলেন, ‘পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে আমরা ঘুরতে এসেছি। এই সমুদ্র সৈকতে একই স্থানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য। লাল কাঁকড়া দলের অসাধারণ শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে হরিণ, বুনো মহিষ, মেছো বাঘ, শূকর, ভোঁদড়সহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি। শীত মৌসুমে স্থানীয় পাখির দলে যোগ দেয় হাজারো অতিথি পাখি। সাইবেরিয়ান হাঁস, সরাইল, গাঙচিলসহ নানা জাতের পাখির আগমন হয় এখানে। কিন্তু যাতায়াতের তেমন ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই সৈকতের তেমন প্রচার নেই।’শুধু ইঞ্জিনচালিত নৌকাই যাতায়াতের মাধ্যম। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরে রয়েছে অসংখ্য চ্যানেল। এসব চ্যানেলে পর্যটকরা ঘুরতে আসতে পারে। এ সব চরে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমে হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা (ট্রলার)। চ্যানেলের দু’পাশে একাধিক বনাঞ্চল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চরের কোল ঘেঁষে অবস্থান মৌসুমি জেলেদের। শুকনো মৌসুমে নানা স্থান থেকে ব্যবসার জন্য এই চরটিতে আশ্রয় নেন। অগনিত জেলে। এসব দেখে মনে হবে এক অন্যরকম জগৎ।সোনারচরে স্বর্ণ না থাকলেও আছে সোনা রঙের বালু আর মৃদু বাতাসের নৃত্য। সকাল কিংবা শেষ বিকেলের রোদের আলো চরের বেলাভূমিতে পড়লে দূর থেকে পুরো দ্বীপটাকে সোনালি রঙের থালার মতো মনে হয়। বালুর ওপরে সূর্যের আলো পড়ে চোখের দৃষ্টিতে সোনারঙের আভা ছড়িয়ে যায়। মনে হবে দ্বীপটিতে যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই দ্বীপটির নাম ‘সোনারচর’ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।সোনারচরে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে গলাচিপা উপজেলায় পৌঁছাতে হবে দর্শনার্থীকে। সেখান থেকে আগুনমুখা নদী পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হবে রাঙ্গাবালী উপজেলায়। এরপরে উপজেলার গহীনখালী খেয়াঘাট থেকে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ি দিয়ে ট্রালারে যেতে হবে সোনারচর। এছাড়াও কুয়াকাটা থেকে সরাসরি ট্রলার অথবা স্পিডবোট নিয়ে যাতায়াত করা যায়। তবে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চরমোন্তাজ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস শুরু হলে সহজে ঢাকা থেকে এই চরে যাতায়াত করা যাবে বলে স্থানীয়রা জানান। ১২ বছর পর চালু হচ্ছে ঢাকা-চরমোন্তাজ লঞ্চ সার্ভিস ॥ এ সব চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ ১২ বছর পর ঢাকা-চাঁদপুর-চরমোন্তাজ রুটে চালু হচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস। ২০১০ সালে এই রুটে লঞ্চ চলাচল করতো। কিন্তু নদীর নাব্য সংকটের কারণে নৌ-পথটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এই রুটটি চালু হলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর ও হেয়ারচর সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের যাতায়াতের সহজ বলে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর ফলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের লঞ্চে যাত্রী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাই লোকসানে পড়তে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। এ সমস্যা সমাধানের নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় নৌ-পথের নতুন রুট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চর এলাকায় যাত্রী ও পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য বিলাসবহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।এর মধ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চাঁদপুর-চরমোন্তাজ রুটে চালু হবে নতুন লঞ্চ সার্ভিস কুয়াকাটা-১। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩ টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এই লঞ্চ। দুটি কোম্পানির তিনটি লঞ্চ এই রুটে চলাচল করবে বলে বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ-ট্রাফিক) মোঃ রফিকুল ইসলাম ডেইলি তালাশকে বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় বরিশালে লঞ্চ যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। তাই লঞ্চগুলোতে যাত্রী সংকট সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। যেখানে কোন লঞ্চ ছিলনা। এছাড়া দুর্গম চরাঞ্চলে যাত্রী ও পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য বিলাসবহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চরমোন্তাজ রুটে নতুন করে তিনটি লঞ্চের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে কুয়াকাট-১ লঞ্চের মালিক আবদুস সালাম ডেইলি তালাশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনটি লঞ্চ দিয়ে এই সার্ভিসটি পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে প্রতিদিন ঢাকা থেকে একটি এবং চরমোন্তাজ থেকে একটি করে দুটি লঞ্চ চলবে। আর একটি লঞ্চ ঢাকার সদরঘাটে রাখা হবে। একদিন পর পর পরিবর্তন করে এই তিনটি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের চাহিদা আলোকে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে।###

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |