ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
পাঁচবিবিতে সংগ্রামী ৫ জয়িতার সাফল্যের কাহিনী

পাঁচবিবিতে সংগ্রামী ৫ জয়িতার সাফল্যের কাহিনী

মোঃ ইদ্রিস আলী, পাঁচবিবি(জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ৫ জীবন সংগ্রামী নারী সমাজের সব বিপন্নতা ও প্রতিক‚লতাকে জয় করে জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী এই ৫ সংগ্রামী নারীকে জয়িতা নির্বাচিত করেন। চলতি মাসের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এ্যাডঃ সামছুল আলম দুদু প্রধান অতিথি হিসাবে তাদের সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদ প্রদান করেন। তারা হলেন-
অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী জয়িতা লাভলী আক্তার


অর্থনীতিতে সাফল্য অর্জনকারী উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে লাভলী আক্তার। তিনি বলেন যে, বয়সে খেলাধুলা ও পড়াশুনার পাশাপাশি স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার কথা, তখনই আমার ঘারে মা বাবা সংসারের বোঝা চাপিয়ে দেন। আমার স্বামী সংসারও মধ্যবিত্ত। অভাব কাকে বলে স্বামীর সংসারে এস্ইে তা হাড়ে হাড়ে টের পাই। এসময় তাই জীবনের তাগিদেই অল্প সময়ে সংসার জীবনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এর দুই বছর পরে সন্তানের মা হলাম সংগ্রাম আরও বেরে গেল। শুরু হলো জীবন সংগ্রাম। গ্রামের লোকের কাছ থেকে হাঁস মুরগী, গরু ছাগল বর্গা(আদি) নিয়ে লালন পালন করি এবং বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে স্বামীকে সাহায্য করতে থাকি। তারপর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করে বাচ্চা বিক্রি করে সংসার চালাই এবং কিছু টাকা সঞ্চয় করি। তখন মনে হলো এভাবে টাকা জমিয়ে কিছু জায়গা জমি কিনে ঘরবাড়ি তৈরী করতে হবে। সংসারের প্রয়োজনের তাগিদে আমি সেলাই এর কাজ শিখি এবং একটা সেলাই মেশিন ক্রয় করে সেলাইয়ের কাজ শুরু করি। এরপর নিজেই আরও কয়েক জন নারীকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেই। তারা উপার্জনের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়েছে। আমি আমার গবাদী পশু পালন করে ঋণ গ্রহনের মধ্যে দিয়ে কিছু জমিজমা ও ঘর বাড়ী তৈরী করেছি। আল্লাহর রহমতে তেমন কোন ঋণদেনা নেই। এখন আমার ছেলে মেয়ে দুটোর পড়াশুনার খরচ চালাতে কোন ঘাটতি হয় না। আমার ছেলেকে আমি একটা সরকারী কাজের সু-ব্যবস্থা করাতে পেরেছি। মেয়ে ১০ম শ্রেণীতে পড়ে। সংসারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমাকে সবাই লাভলী দর্জি বলেই এলাকার সবাই চিনে। নিজের চেষ্টায় যে, এতদূর আসতে পেরেছি এটা আমার কাছে অনেক। আমিও চাই আমার মতো অন্যান্য নারীরাও এগিয়ে আসুক।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী সংগ্রামী জয়িতা সহিদা রুবি।
সাহিদা রুবি, উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের কাঁটাপুকুর গ্রামের দেওয়ান ইলিয়াস আলী মেয়ে। তিনি বলেন, চার ভাইবোন সংসারে তেমন সচ্ছলতা নেই বলে চলে। বাবার হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের লেখাপড়া চলত। অভাবী সংসারের কারণে আমার নবম শ্রেনীতে অধ্যয়ন অবস্থাতেই বাবা আমাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। বাবার অভাবের সংসার, আর বিশেষ করে পরিবারের লোকজন মনে করত মেয়েদের বেশি পড়িয়ে কি লাভ? তারা কিবা করতে পারবে? এতেও মনোবল হারালাম না। ভাবলাম জীবন তো ফুলশয্যার বিছানা নয়। বাবা মাকে বুঝালাম, আমার লেখাপড়ার খরচ তোমাদের দিতে হবেনা, আমি চালিয়ে নিব। থেমে গেল বিয়ের সিদ্ধান্ত। এরপর জীবন শুরু হলো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার লড়াই। সকালে কিছু ছাত্র এবং বিকালে কিছু ছাত্র নিয়ে শুরু করলাম টিউশনী করা। আর রাতে হারিকেনের আলোতে নিজের পড়াশুনা। এভাবে এস.এস.সি পাস করলাম প্রথম বিভাগে। বাবা, মাসহ প্রতিবেশির সকলেই খুব খুশি। তাদের খুশি দেখে আমার মনোবল আরো বেড়ে যায়। অনেক পরিবারে আমার মতো যারা আছে তাদের উৎসাহ দিলাম পড়াশুনা করার। আমি টিউশনী করতাম পাশা-পাশি এস.এস.সি, এইচ.এস.সি, ডিগ্রি পরীক্ষার্থীর খাতা ছবি অংকন করে দিতাম, যে টাকা পাইতাম সেটা দিয়ে আমার পড়াশুনা এবং প্রতিবেশী অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতাম। অনেক অসহায় গরীব মা, বোনদের কে টাকা দিতাম তাদের কিস্তি দেওয়ার জন্য। পড়াশুনা এবং টিউশনীর ফাঁকে গণশিক্ষা স্কুল চালিয়েছি। তারপর ১ম বিভাবে এইচ.এস সি ও বি.এস.সি দ্বিতীয় বিভাগে। বাবা, মা সহ সবাই খুশি হলেন। অবশেষে বাবা তার শেষ সম্পদ টুকু বিক্রি করে বিয়ে দেয় এক লোভী পরিবারে। শুরু হয় আমার জীবনের নতুন অধ্যায়। বাবার সম্পদ বিক্রির টাকা আর শশুর বাড়ীর সহযোগীতায় আমার চাকুরী হয় শিক্ষকতায়। বাবা চাকুরীতে সহযোগীতা করলেন কিন্তু দিতে পারলেননা ঘর সাজিয়ে। এনিয়ে শুরু হলো স্বামী সংসারে আমার প্রতি অমানবিক আচরণ। শাশুড়ী আর ননদের ভৎসনা ও তিরস্কার শুনতে হতো প্রতিনিয়ত। সংসারের যাবতীয় কাজ আমার দ্বারায় করে নিত। এরপর যোগদান করলাম আমার কর্মস্থলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলে, মেয়েদের নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। কিভাবে ছেলে মেয়েদের কে পাঠদানে মনোযোগী করে তোলা যায় এবং ছেলো মেয়েদের কে প্রতিষ্ঠান মুখি করা যায়। এই চেষ্ঠা আমি চালিয়ে যাই প্রতিনিয়ত। কোন ছাত্র না আসলে প্রধান কে জানাই এবং আমি তার খোঁজ খবর নেই। কিভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়। এব্যাপারে প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে এবং মাদের কে তাদের সন্তানের জন্য সচেতন করার লক্ষে মা সবাবেশ আয়োজন করি। এছাড়া গ্রামের এবং পাশের শিক্ষিত বেকার ছেলে মেয়েদেরকে ডেকে কাজের উৎসাহ দিতাম। শিক্ষিত হলে চাকুরী করতে হবে এমনটা নয়। তাদরে কে বলতাম ছাগল এবং গাভীপালন, মুরগীর র্ফাম এবং মাছচাষ এসব এর মধ্যে দিয়ে বেকারত্ব দূর করতে হবে। স্বাবলম্বী হতে হবে। হতে হবে প্রত্যেক নিজেদের পরিবারের অবলম্বন। গরীব ও অসহায় মা, বোনদের পাশে দাড়াতাম। কোন বোন গর্ভবতী হলে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতাম। আবার ডেলিভারির সময় হলে এ্যাম্বুলেন্স এ ফোন দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতাম। এছাড়া বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ লক্ষ্যে কাজ করে যাই। কারণ আইন প্রয়োগ করে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তাই মা, বোনদের কে বুঝিয়ে সচেতন করে তুলি। গ্রামের মা বোনদের নিয়ে মাসে একবার আলোচনা সভা করি। কি করে পিছিয়ে পরা মা,বোনদের এগিয়ে নেওয়া যায় এবং তাদের বিভিন্ন পরামর্শ এবং উৎসাহ প্রদান করি। কোভিট-১৯ এর সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অসহায় ও গরীব মা, বোনদের পাশে দাড়িয়ে সাবান ও মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন পরামর্শ এবং উৎসাহ প্রদান করেছি। এছাড়া আমার স্বামী বেকার হওয়ায় তাকে ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষে তাদের পাশেও রয়েছি। স্বপ্নছিল ছাদ বাগানের সেটাও সম্ভব করেছি। আমার ছাদ বাগানে দেশী, বিদেশী ফুলফল, ঔষুধী ও সবজির গাছ এখন ভরপুর। পরিশেষে বলবো চেষ্টায় আসে সফলতা আর অলসতায় আসে ব্যার্থতা। আমি আমার চেষ্টায় অনেক সফলতা অর্জন করেছি এবং সকলের মাঝে আমি অনেক ভাল আছি।

সফল জননী আমেনা খাতুন
আমি মোছাঃ আমেনা খাতুন অল্প বয়সে লেখাপড়ার মাঝেই বাবা আমাকে বিয়ে দেন। বিয়ের পর আমি পাঁচবিবি উপজেলার টিএনটি পাড়ায় স্বামীর সংসারে আসি। স্বামীর সংসারে অভাব অনটন তবুও আমি হাল ছাড়িনি। সং!সার জীবন বেছে নেই, আমাদের সংসার জীবনে ৪টি ছেলে মেয়ে হয়। প্রথমে হাসমুরগী পালন শুরু করি একটা সেলাই মেশিন নিয়ে বাড়িতে কাজ শরু করি। এভাবে ৪টি সন্তানকে লেখাপড়া করানো শুরু করি। সন্তানদের লেখাপড়া করাতে গিয়ে খায়ে না খেয়ে দিন পার করেছি। আমার স্বামীর তেমন কোন আয় রোজগার ছিলনা যা আয় করতো তা দিয়ে কোন রকম চলে যেত। কিন্তু আমার খুবই ইচ্ছা আমাদের যতই কষ্ট হউক ছেলে মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করব ইনশাল্লাহ। তাই আমি পেছনের দিকে না তাকিয়ে নিজেরা খেয়ে না খেয়ে বড় ছেলেকে ঢাকাতে লেখাপড়া করাই।সে বর্তমানে মাষ্টার্স শেষ করে বিদেশে চাকুরী করছে। ২য় ছেলে শেরেবাংলা কৃষি কলেজ থেকে পাশ করে উপ-সহকারী কুষি কর্মকর্তা হিসেবে জামালগঞ্জ হটিকালচারে চাকুরী করছে।১ম মেয়ে মাষ্টার্স শেষ করে ব্র্যাকে চাকুরী করছে জামাই ও ব্র্যাকের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা পদে চাকুরী করছে। ২য় মেয়ে মাষ্টার্স শেষ করেছে এখন ও চাকুরী পায় নাই জামাই জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে। আমাদের চার সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে শেষ সম্বল ছিল ৫ শতাংশ জমি সেটাও বিক্রি করেছি। তারপরও নিজেকে গর্ভবোধ করি নিজের কষ্ট সার্থক হয়েছে এবং আমি একজন সফল জননী।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন সংগ্রামী সফল নারী সাথী বেগম

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বিয়ে হয় উপজেলার এখলেছারের মেয়ে সাথী বেগমের। নিজের সংসার বুঝার আগেই ২ সন্তানের মা হই। এরই মধ্যে ব্র্যাক এনজিও থেকে ২০,০০০/- ঋণ নিয়ে তার স্বামী দুই সন্তানকে রেখে ঢাকায় চলে যায়। তাদের আর কোন খোঁজ খবর নেয় না। এসময় খুব অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। সন্তানদের মুখে ভাত যোগাতে এবং কিস্তির টাকা যোগাতে কাজের খোঁজে বের হন। শুরু করেন মুরগীর ফার্মে কাজ। তিনি বলেন, সেখানে যা রোজগার হত তা দিয়ে কোনমতে চলত আমাদের জীবন। এরই মাঝে পরিচয় হয় এক হিন্দু ছেলের সাথে। তাকে মুসলমান বানিয়ে বিয়ে করি। কিন্তুু হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করার কারণে সমাজের লোকজন আমাকে অনেক অপমান করে এমনকি আমাকে মারপিট পর্যন্ত করে। এবস্থায় অনেক কষ্ট সহ্যকরে স্বামীকে নিয়ে পাঁচবিবি ষ্টেশনের পাশে ভাড়া বাড়িতে থাকি। তারপর কিছুদিন পরে আমার স্বামী তার বাবা মার চাপে পড়ে আমাকে রেখে চলে যায়। শরু হয় আমার জীবনের আরেকটা কাহিনী। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকি। অন্যের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে আমার স্বামীর কাছে ফোন করি । তারপরও আমার স্বামী আমার কাছে আসে না। নিরুপায় হয়ে ব্র্যাক অফিসে অভিযোগ করলে আমাদের মিমাংসা করে দেয়। তার কিছুদিন পরে আবার আমার স্বামী আমাকে অত্যাচার ও মারপিট করে তাদের বাড়ীতে চলে যায়। আমি তাদের বাড়ীতে খুঁজতে গেলে আমার শশুর আমাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয় । আমি সেখান থেকে একা চলে আসি। তারপরও আমি নিজেকে মেনে নিয়ে মনে মনে ভাবি কি ভাবে আমি নিজের পায়ে দাঁড়াব। ব্র্যাক এনজিও থেকে ৩০,০০০/ টাকা ঋণ নিয়ে ষ্টেশনের পার্শে মুদির দোকান দেই। বর্তমানে আমি বিধাতার ইচ্ছায় দোকানে ভাল বেচাকেনা হয়। এখন আমি ভাল আছি।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা সংগ্রামী নারী আংগুর বেগম
সমাজ উন্নয়নের অসামান্য অবদান রাখা আরেক সংগ্রামী নারী উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের মৃত সোলায়মান প্রামানিকের স্ত্রী আংগুরা বেগম।তিনি বলেন, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়। তখন বুঝিই নাই ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হলে সেটাকে কি বিবাহ বলে এবং এর ক্ষতিকর দিক গুলো কি কি? বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি এসে দেখি আমার সংসার অনেক বড় । এত বড় এই পরিবারে নানা রকম সমস্যা। সেই প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে আমার জীবনের আরেক পথ চলা শুরু করি। এই সংসারে সুখ দুঃখ নিয়ে চলতে থাকে আমার জীবন কাহিনী। এবস্থায় আমার সংসারে চার ছেলে মেয়ের জন্ম হয়। বে-সরকারী সেবা সংস্থা ব্রাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির গ্রাম পল্লী সমাজ নামক একটা সংগঠন । সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন,সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ দুর করা, মাদক কে না বলা ও বিভিন্ন সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জরিত হয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়া ও অন্যকেও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার বিষয় গুলো জানতে পারি। এরপর সেখানে সভানেত্রী নির্বহই। সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম যে আমি বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছি।


সমাজের আর কোন মেয়ে যেন বাল্য বিবাহের শিকার না হয় সেটি পল্লী সমাজের মিটিং গুলোতে বাল্য বিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করি এবং এতে বুঝতে পারলাম সমাজের জন্য ভাল কাজ করছি। এরপর এই কাজকে আরো প্রসারিত করতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করে ২০০৫ সালে মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেন । এভাবে আমি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতের শুরু করলাম। পরে ২য় বারের মত জনগন আমাকে আবারো নির্বাচিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাজের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত মেয়েদের সচেতনতা পরামর্শ দেই এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ,যৌতুক মুক্ত সমাজ,বয়স্ক শিক্ষা,যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের কে অনেক সহযোগিতা করেছি। নিজে যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং সমাজের অসহায় অনেক নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে এসেছি । তারা এখন নিজেরা হাঁস মুরগী পালন করে অনেক লাভবান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যখন নিজের সংসারে কাজ করে সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতাম, তখন আমাদের সমাজের অনেক মানুষ এমনকি আমার পরিবারের মানুষ ও আমাকে অনেক বাজে কথা শুনাতো। কিন্তু আমার স্বামী সবসময় আমার পাশে ছিল। আমি মানুষের কথা কর্নপাত না করে নিজের উপর ভরসা করে নিজের মনের সাহস যুগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি আমি যখন আমার সমাজটাকে পরিবর্তন করেছি। তখন সমাজের মানুষ এবং আমার পরিবারের মানুষ আর আমাকে খারাপ চোখে দেখে না এখন আমাকে সবাই সম্মান করে থাকে।

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

বিনোদন

  • গত ১৯ জানুয়ারি বিয়ে করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুশা চট্টোপাধ্যায়। বিয়ের পরেই ১৩ বছরের অভিনয় জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছেন অভিনেত্রী। আগামী ফেব্রুয়ারিতেই বিদেশে উড়ে যাবেন তিনি। সেখানেই ঘর বাঁধবেন। সুতরাং অভিনেত্রীর নতুন ইনিংসের সূচনায় একদিকে যেমন খুশি ভক্তরা, তেমনি মন খারাপও তাদের।  কারণ বিয়ের আগেই রুশা জানিয়েছিলেন, অভিনয় ক্যারিয়ারে আপাতত ইতি টানছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনই তাঁর প্রায়রিটি লিস্টে এক নম্বরে। তবে রুশার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসামাত্রই তাঁকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় খিল্লি, কেননা অভিনেত্রীর উচ্চতার তুলনায় খানিকটা খাটো তাঁর স্বামী। অভিনেত্রীর ভাই বলে সম্বোধন করেছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী বরের গলায় মালা পরিয়েছেন রুশা। যদিও অনুরণ কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন কিন্তু তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার অশোকনগরে।  রিসেপশনের পরের দিনই ছিল রুশার জন্মদিন, তাই বউভাতের রাতেই বাড়ির অতিথিদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছেন নায়িকা। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে আবারও সেলিব্রেশন মুডে নবদম্পতি। উপলক্ষ বিয়ের পর প্রথম ভাইয়ের জন্মদিন। তাই বরকে আর পুরো পরিবারকে পাশে নিয়েই জন্মদিন উদযাপন করলেন রুশা।  বিয়ের পর বিতর্কে জড়ালেও কোনো কিছুতেই প্রতিক্রিয়া জানাননি অভিনেত্রী। বরং স্বামীর সঙ্গে মাঝরাতেই কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদযাপন করলেন নায়িকা।

  • শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বিতর্কিত সিনেমা ‘পাঠান’। ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাবে এ সিনেমা। ২০ জানুয়ারি অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ১৮ জানুয়ারি থেকে। আর প্রথম দিনেই সিনেমাটির অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে। বক্স অফিস বিশ্লেষক অতুল মোহন এক টুইটে জানিয়েছেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে মোট ৯০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে পিভিআর: ৩৫ হাজার, আইএনওএক্স: ৩০ হাজার ও সিনেপোলিস: ২৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত। হিন্দুস্তান টাইমসকে অতুল মোহন বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে যদি অগ্রিম বুকিংয়ের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রি হয়, তাহলে মুক্তির আগের দিন এই বিক্রির পরিমাণ শীর্ষে ওঠে যাবে। তাই নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এটা সিনেমার জন্য ভালো লক্ষণ। সিনেপোলিস, পিভিআর এবং আইএনওএক্স-এর মতো হলগুলো ‘পাঠান’ সিনেমা পাঁচটির মধ্যে চারটি স্ক্রিনে দিয়েছে। আরেক বক্স অফিস বিশ্লেষক তরন আদর্শ এক টুইটে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাঠান সিনেমার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার। যার মধ্যে পিভিআর: ৫১ হাজার, আইএনওএক্স: ৩৮ হাজার ৫০০ ও সিনেপোলিস: ২৭ হাজার ৫০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে লিখেছের সুনামি লোডিং। শুক্রবার থেকে টিকিট বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে। বক্স অফিস বিশ্লেষক অক্ষয় রাঠি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন— ‘‘প্রথম দিনে ‘পাঠান’ সিনেমা আয় করবে ৩৫ কোটি রুপি। বুধবার (২৫ জানুয়ারি, মুক্তির দিন) কর্মব্যস্ত দিন হওয়া সত্ত্বেও এটি বড় প্রাপ্তি। আমার বিশ্বাস, ২৬ জানুয়ারি সিনেমাটি ৪৫ কোটি রুপি আয় করবে।’###

  • আঃ মজিদ খান, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। দিনটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও পেশার ভ্রমণপিপাসু মানুষ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আসেন। দিনভর নানা আয়োজনে মেতেছিলেন তারা। তবে খাবারের মান এবং হোটেল ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। তাদের দাবি, বিষয়টি স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে নেওয়া উচিত।কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ ঘুরেছেন লেম্বুর চর, গঙ্গামতি চর, ফাতরার বন, কাঁকড়ার চর ও রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেটসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় স্পটগুলো। কেউ কেউ উপভোগ করছেন সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য। কেউ আবার সেলফি তুলে, সমুদ্রে সাঁতার কেটে, ঘোড়ায় চড়ে স্মরণীয় করে রেখেছেন মুহূর্তগুলো। সবমিলিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় ১৮ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতটি মুখরিত হয়ে ওঠে।শুক্র ও শনিবার দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোববারের বড়দিনের ছুটি। টানা তিনদিনের ছুটি উপভোগ করতে ভ্রমণপ্রেমিরা ছুটে আসেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসতে শুরু করেন।এদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকদের আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলের ভাড়া এবং খাবারের মান। খাবারের অতিরিক্ত দাম ও হোটেলে গলাকাটা ভাড়া নেওয়ায় অভিযোগ করে পর্যটকরা বলছেন, বিষয়টি স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে নেওয়া উচিত।ঢাকা থেকে আগত ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কুয়াকাটা অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরা। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়। আমি এর আগেও একবার এখানে এসেছিলাম। তখন ব্যয় অনেক কম ছিল। কিন্তু এবার এসে দেখি সবকিছু বদলে গেছে। তিনি বলেন, এর আগেরবার যে হোটেল ভাড়া দিয়েছিলাম এক হাজার টাকা, এবার সেই হোটেল ভাড়া দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। খাবার হোটেলেরও একই অবস্থা। খাবারের মানের চেয়ে দাম অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। এসব পর্যটন এলাকার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এতে পর্যটন এলাকার ক্ষতি হচ্ছে।ঢাকা থেকে আগত আরেক পর্যটক ইসমাইল হোসেন বলেন, কুয়াকাটা অনেক সুন্দর। কিন্তু খাবারের মান ও দাম দেখে সবকিছু ম্লান হয়ে যাচ্ছে। খাবারের মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি। মান ভালো করে এবং দাম কমালে পর্যটকরা খুশি হতো এবং পর্যটকদের আগমন আরও বেড়ে যেত।এ ব্যাপারে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, বড়দিনের ছুটিকে ঘিরে কুয়াকাটা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। হোটেল-মোটেলের শতভাগ রুম বুকিং ছিল। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কুয়াকাটা জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক জানান, তিনদিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বড়দিনকে ঘিরে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য। কোনো নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। যে যেভাবে পারছে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ শোয়াইব মিয়া জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি এখানে যোগদান করেছেন। জানুয়ারিতে পর্যটকদের ভরা মৌসুমে কুয়াকাটায় অভিযান চালানো হবে এবং সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। কেউ নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।###

  • আঃ মজিদ খান, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ তিন দিনের সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিনেও শনিবার ২৪ ডিসেম্বর পর্যটকে টইটুম্বর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশাকে উপক্ষো করেই সকাল থেকে সৈকতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা। এদিকে, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করে চলেছে প্রশাসন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আগত পর্যটকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সৈকতের জিরো পয়েন্টে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে মেতেছেন। অনেকে আবার সেলফি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আবার অনেকেই বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ায় করে ছুটি চলেছেন। এছাড়া কুয়াকাটার চর বিজয়, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, ঝাউবন, শুটকি পল্লী, লেবুর বন ও তিন নদীর মোহনাসহ সবকটি পর্যটন স্পটে এখন পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা। পর্যটকদের এমন ভিড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাই অনেকটা খুশি ব্যবসায়ীরা।  এদিকে আজ রোববার পর্যন্ত বুকিং রয়েছে কুয়াকাটার শতভাগ হোটেল মোটেল। অনেক পর্যটক হোটেলের সিট না পেয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়দের বাসা বাড়িতে। কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে শুরু করে পৌরসভা পর্যন্ত যানযট লেগে থাকছে প্রায়ই। কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে কথা হয় পর্যটক তামান্না রহমানের সঙ্গে কথা হয় ডেইলি তালাশ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। সকাল থেকে বাচ্চারা সৈকতের বালিয়াড়িতে খেলাধুলা করছে। আমরা বেশ আনন্দ করছি।’ সাতক্ষীরা থেকে আসা অপর পর্যটক মিথিলা সাকিব বলেন, প্রিয় জনকে সঙ্গে নিয়ে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে সাগরের ঢেউ উপভোগ করা এক অন্যরকম অনুভ‚তি। সকাল থেকে বেঞ্চিতে বসে আছি। নানা বয়সের মানুষ দেখছি। কুয়াকাটায় এসে মনটা ভরে গেছে।’ কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক বলেন, ‘যে কোনো অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে সবকটি পর্যটন স্পটে আমাদের ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।’###

  • ডেইলি তালাশ ডেস্ক>>চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির ফেসবুকের একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দীঘির অভিযোগ, তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতির শিকার হয়েছেন। পরিচালকের বিরুদ্ধে তিনি কথা দিয়ে কথা না রাখার অভিযোগ করেছেন। এবিষয় নির্মাতা রায়হান রাফিও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘দীঘির উচিত টিকটক বাদ দিয়ে অভিনয়ে মনোযোগী হওয়া।তার ফিটনেসের দিকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। তাকে শুধু আমার সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিষয়টা এমন না, অন্যরা কেন তাকে সিনেমা থেকে বাদ দিল? নিশ্চয়ই তার কোনো ঘাটতি আছে।’ এদিকে পরিচালক রাফির এই মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মডেল-অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহ। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন- বাংলাদেশের রেকর্ড হয়ে থাকল! এইভাবে কোনো দিন কোনো বড় ডিরেক্টর, কোনো নায়িকাকে প্রকাশ্যে তার ফিগার নিয়ে অপমান করতে দেখিনি। উনি এমনভাবে কথা বলেছেন যেন ইন্ডিয়ান নির্মাতা করণ জোহর বা সঞ্জয়লীলা বানসালি হয়ে গেছেন। রায়হান রাফিকে ইঙ্গিত করে সুবাহ আরও বলেন, যে প্রেম করতে পারবে সেই ভালো নায়িকা, ভালো ফিগারের সুন্দরী নায়িকা!…… এটা কি ধরনের মিনিং!’  এই অভিনেত্রী আরও লেখেন- বর্তমান যুগে অনেক বড় বড় বলিউড এবং বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকারা অনেকেই টিকটক করেন।এভাবে একটা নায়িকাকে অপমান করা হলো বিষয়টা খুব কষ্টের তারপরও সে (দীঘি) ছোট থেকেই অভিনেত্রী আবার স্টারকিড। তিনটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে আছে। সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, তাকে অবশ্যই সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত ছিল তার। সুবাহ আরও লেখেন- চলচ্চিত্রের প্রযোজক পরিচালক মানে সিনেমার বাবা মা, ওনারা যদি এইভাবে এই ভাষায় অভিনেত্রীদের নিয়ে কথা বলে তাহলে বিষয়টা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। এইভাবে বডি শেমিং করা ঠিক হয়নি। আপনাদের সবার উচিত এই সব ফালতু মন মানসিকতার মানুষদের শিক্ষা দেওয়া। আমিও চলচ্চিত্রের একজন অংশ এবং আমিও একটা মেয়ে তাই বিষয়টি আমার খারাপ লেগেছে আর আমি পারসোনালি দিঘিকে অনেক পছন্দ করি। আমি কখনো কাউকে ছাড়ে কথা বলিনি এবং বলবও না আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে ওই ডিরেক্টরের কথাবার্তাগুলো। দিঘির জায়গায় হয়তো আমিও এ রকম বাজে ভাবে বডি সেভিং এর শিকার হতে পারি দুদিন পর! ওনার মতো ডিরেক্টর এর কাছে। দিঘির বাবা আমার ছবিতে আমার বাবা হয়েছিলেন অনেক ভালো মানুষ আর দিঘির মা অনেক নামকরা নায়িকা দোয়েল ছিলেন। দিঘি একটা অল্প বয়সের মা হারা মেয়ে।###

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |