ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
পচ্শিম দলিরাম মাঝা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনী সহিংসতা

পচ্শিম দলিরাম মাঝা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনী সহিংসতা

নিজস্ব প্রতিবেদক কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) : দীর্ঘ তিন মাস আতংকের  পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরছে মিলিত প্রাণের উচ্ছ্বাসে। নতূন বই খাতা-কলমে লাগবে মলিন হাতের ছোঁয়া।প্রস্তুত স্কুল ব্যাগ, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা বিবর্ণ প্রকৃতিতে জেগে উঠে নতুন প্রাণের স্পন্দন ফিরবে আপনালয়ে নেই প্রস্তুতিরও ঘাটতি। 

পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিরচেনা সেই খেলাধুলা ছোটাছুটি পড়ালেখার দৃশ্য দেখার জন্য উন্মুখ সবাই। ইউনিফর্ম পড়ে, কাঁধে বই-খাতার ব্যাগ ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা আবারো ফিরেছে তাদের প্রিয় পাঠশালায়। শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রিয় পাঠশালা।

প্রিয় শিক্ষক-প্রিয় বন্ধু-সহপাঠীদের পেয়ে কিছুতেই থামছে না আনন্দের উচ্ছ্বাস। সহিংসতার  গত আড়াই মাসে নানা অভিজ্ঞতা, আনন্দ-বেদনার কথা সহপাঠীদের জানাতে ভুলছে না। শিক্ষকরা সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের আদরমাখা শাসনের জন্যও নিয়েছেন মানসিক প্রস্তুতি।যদিও এই উপস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট  স্কুল কর্তৃপক্ষ।শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ‘হোম ভিজিট’ শুরু করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা আছেন সমস্যায়। ছোট হয়ে গেছে স্কুলের পোশাকটা।

শরীরে যে খাপ খাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ভিড় বেড়েছে টেইলার্সের দোকানে। চওড়া হাসি ফুটেছে স্ট্রেশনারি দোকানগুলোতেও। স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানদাররা। নির্বাচনী সহিংসতায় গেল ২৮নভেম্বর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে নির্বাচনী সহিংসতায়  হত্যাকান্ডের শিকার হন বিজিবি ল্যান্স নায়েক রুবেল মন্ডল। এ ঘটনায় ৯৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়। ঘটনার পর থেকে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান গ্রেফতার আতংকে। 

এখন দোকান পাট খোলা লোকজনের জটলা  বাজারঘাটে দেখা যাচ্ছে।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৌদি আখতার বলেন, ২৯নভেম্বর থেকে চারদিন(সোমবার-বৃহস্পতিবার) আমরা একাডেমিক ভবনে প্রবেশ করতে পারিনি।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করায় স্কুলের মাঠে আমরা উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে এসেছি। পরবর্তিতে ১৩ডিসেম্বর পর্যন্ত তেমন শিক্ষার্থী আসেনি স্কুলে।

১৪ডিসেম্বর থেকে কিছু শিক্ষার্থী স্কুলে আসা শুরু করে। যা অব্যাহত রয়েছে। মুলত শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার প্রবণতা দেখা গেছে মামলার প্রধান আসামী মারুফ হোসেন অন্তিক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে। বিদ্যালয় সুত্র জানায় শিশু শ্রেণী থেকে ৫ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১০জন ছিল, বুধবার পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৬০জন।  অনেক অভিভাবক এখন বাহিরে থাকায় অনেকে এখনও ভর্তি হয়নি।এরমধ্যে বিদ্যালয়ের ৫ শ্রেণির ছাত্রী কুলসুম আখতার আজকালের খবর কে জানান, স্কুলে আগের মত আনন্দ  লাগে, অনেক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে ভাল লাগছে। সালমান শাহ  নামে ৫ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জানান, এলাকার অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে নেই। অনেক বন্ধুর বাবা মা বাহিরে আছে তাই  বন্ধু-বান্ধব আসছে না। খেলাধুলা হচ্ছে না। কিছু বন্ধু বান্ধব আসা শুরু হয়েছে।

  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, নির্বাচনী সহিংসতার পর থেকে বলা যায় পুরো এলাকা মানুষ শুণ্য ছিল। এখন এলাকায় মানুষজন ফিরতে শুরু করেছে। পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক যত্নেও নেয়া হয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। আমরা উচ্ছ্বসিত, আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। শিক্ষার্থী ছাড়া আমাদের জীবন অর্থহীন। তারা এসেছে পাঠশালায়, ফিরে পেয়েছে প্রাণচঞ্চল ।

  শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে আমরা হোম ভিজিট করছি। তাদের স্কুলে আসতে বলছি। তিনি আরো বলেন, যদি তারা না আসে তাহলে পিছিয়ে পড়বে। করোনায় দীর্ঘদিন গেল। এখন গুরুত্বপুর্ণ সময়। পড়াশোনা নিয়ে মুল্যায়ন চলছে। সে কারণে তাদের উপস্থিতি দরকার। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফা আখতার আজকালের খবর কে বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার পর কিছুদিন আলামত হিসেবে বিদ্যালয়টি আয়ত্বে রেখেছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এখন তাদের আয়ত্বে নেই। বিদ্যালয় খোলা হচ্ছে এবং শিক্ষকরা নিয়মিত যাচ্ছেন তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে  শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে হোম ভিজিট করার জন্য।

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |