ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
তারাগঞ্জে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা ও ২০৭ মেট্রিক টন গম ও চাল ভাগ-বাটোয়ারা

তারাগঞ্জে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা ও ২০৭ মেট্রিক টন গম ও চাল ভাগ-বাটোয়ারা

তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৮টি কাবিটা প্রকল্পের বিপরীতে ৫৬ লক্ষ টাকা, ও ১৮টি কাবিখা প্রকল্পের জন্য ২০৭ মেট্রিক টন চাল ও গম উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত অর্থ চার ভাগের একভাগও কাজ না করে ভুয়া মাস্টার রোল ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতারা বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ অর্থ বছরে ইকরচালী ইউনিয়নে মেনানগর ফজলের বাড়ী হতে মাটিয়ালপাড়া রাস্তার মোড় পর্যন্ত মাটি ভরাট করনের জন্য ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেট হয়েছে, মেনানগর চেপচেপি হতে ক্লিনিক পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৭ মেঃটন গম, উত্তর হাজীপুর গোলবারের বাড়ী হতে কওলাপাড়া ক্যানেল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৬ মেঃটন গম, কাশাই পাড়া হতে বিশ্বরোড পর্যন্ত সিংগেল লেয়ার এইচবি বিকরণের জন্য ২ লক্ষ, বিশ্ব রোড তুহিনের দোকান হইতে বাজার মসজিদ পর্যন্ত সিংগেল লেয়ার এইচবিবিকরণের জন্য ২ লক্ষ, ইকরচালী কবর স্থানে মাটি ভরাট ও বাউন্ডারী সংস্কারের জন্য ১০ মেঃটন গম।

হাড়িয়ারকুটি ইউনিয়নের চান্দের পুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা, ৯নং ওয়ার্ডের হাড়িয়ার কুটি ধলগাছ হতে কওলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা, কিসামত মেনানগর শাওনপাড়া আব্দুল মোন্নাফের বাড়ী হতে আবুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১০ মেঃটনচাল।

সয়ার ইউনিয়নে দামোদরপুর আবেদের বাড়ীহতে চাকলা স্কুল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১০ মেঃটনচাল, চিলাপাক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করণের জন্য ১০ মেঃটনচাল, সয়ার কাজিপাড়া ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও সংস্কারের জন্য ২ লক্ষ টাকা, সয়ার মাটিয়াল পাড়া যাওয়ার রাস্তা সিংগেল লেয়ার এইচবিবি করণের জন্য ২ লক্ষ টাকা, সয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডালিয়ার ব্রীজ হতে পদ্ধনাথপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৩ মেঃটনচাল, বাচ্ছার বাড়ী হইতে নারা বাড়ী মাদ্রাসা হইয়া মন্ডল পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৯. মেঃটন গম।

কুর্শা ইউনিয়নের খিয়ারচরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে সেকেন্দারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪ লক্ষ্য টাকা, কাজী পাড়া আইডিয়াল ওমেন টেকনিক্যাল কলেজ মাঠে মাটি ভরাট করণের জন্য ১০ মেঃটনচাল, তারাগঞ্জ ও/এ ফাজিল মাদ্রাসার মাঠে মাটি ভরাট করণের জন্য ১০ মেঃটন চাল, জয় বাংলা মাদ্রাসার মোড় হতে কৃষ্ণ পুর বাহাদুর পাড়াগামী রাস্তা সিংগেল লেয়ার এইচবিবি করণের জন্য ২ লক্ষ টাকা, তেতুল তলা পীরের মাজারের উত্তর পার্শ্বে পাকা রাস্তা হতে পূর্ব দিকে ফরতাজের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১২ মেঃটন চাল, পলাশবাড়ী বৌদ্ধ ও মন্দির ভিত্তিক পাঠশালায় মাটি ভরাট ও সংস্কারের জন্য ৯ মেঃটন গম।
আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর পাইক পাড়াগনীর বাড়ী হতে চকতা হিরা তোবারকেরবাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারণের জন্য ৪ লক্ষ টাকা, দোয়ালীপাড়া দায়মূল স্কুলের পাকার মাথা হইতে দোয়ালী পাড়া বাজার রাস্তা এইচবিবি করণের জন্য ২ লক্ষ টাকা, বিশ্বরোড হতে ফাজিলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী রাস্তা সিংগেল লেয়ার এইচবিবি করণের জন্য ২ লক্ষ্য টাকা।


ইকরচালী কবর স্থান হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাঠ ভরাট ও সংস্কারের জন্য প্রতি অর্থ বছরে বরাদ্দ নিলেও কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন বলে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় একাধীক বার সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকারের পক্ষ হতে একটি তদন্ত কমিটিও হয়নি। এছাড়াও অনেক প্রকল্পের ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি করে টাকা উত্তোলন করা হলেও ১ ভাগও কাজ না করে আত্মসাৎ করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রকল্প নাম সবর্স্ব। অনেক প্রকল্পের নাম আছে ঠিকানা নেই। বাস্তবে কবর স্থান মাদরাসা, মন্দির কিংবা রাস্তার উন্নয়নের কোন টাকা বাচাল ব্যয় করা হয় নাই বলে স্থানীয় দের অভিযোগ রয়েছে।
মেনা নগর গ্রামের আবু মোতালেব, কাজীপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন, হাড়িয়ারকুটি উজিয়াল গ্রামের রশিদ সহশতাধিক লোক অভিযোগ করে বলেন, এসব ব্যাপারে উর্দ্ধতন প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে আমাদেরকে ভাংগা ও কাদামাটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হতোনা। সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয় কিন্তু চেয়ারম্যান মেম্বাররা সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করে খায়, এদের বিচার হয় না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, কাজ করে কি হবে উপজেলা বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন প্রতিলাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষগ্রহণের পর সে পরামর্শ দেয় আমার অফিসে লোককে ১ হাজার টাকা প্রদান করিলে ভুয়া মাস্টার রোল তৈরী করে দিবে তা হলেই আপনারা সম্পূর্ণ ডিও উত্তোলন করতে পাবেন, আপনাদের কোন সমস্যা হবেনা। একজন মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেন, এই পিআইও ঘুষ নিজের হাতে না নিলে তার অফিসের লোকের মারফতে ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলন করতে আমার কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এর শাস্তি হওয়া উচিত বলে উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাজে জোড় দাবি জানিয়েছেন।


এ ব্যাপারে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের সঙ্গে উল্লেখিত বিষয়ে কথা হলে, কাজের মানগত কথা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, প্রকল্প চেয়ারম্যানরা টাকা খাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বার হয়েছে আর আমি কোন অর্থ গ্রহণ করিনা। এখন প্রকল্পের কারো ডিও আটক করার ক্ষমতা আমার নাই, সবাই আওয়ামীলীগ নেতা। প্রকল্প গুলো সরে জমিনে তদন্ত করে ডিও দিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সব প্রকল্প যেতে পারিনি কিছু প্রকল্প সরেজমিনে দেখেছি। কাজের মান ভালো হয়েছে আমার জানামতে। পিআইও সাহেব প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কাছে টাকা নেয় কিনা আমার জানা নেই।

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |