ডেইলি তালাশ
ডেইলি তালাশ এ আপনাদের স্বাগতম। সময়ের সাথে সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পেতে আমাদের ওয়েভ-সাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
কিশোরগঞ্জে পরীক্ষামুলক ভাবে এই প্রথম কিনোয়া চাষ হচ্ছে

কিশোরগঞ্জে পরীক্ষামুলক ভাবে এই প্রথম কিনোয়া চাষ হচ্ছে

কাওছার হামিদ,কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ইউরোপ উত্তর আমেরিকাসহ চিনের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের খাদ্য তালিকার অন্যতম পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ও দুর্লভ ভেষজ ঔষধি গুণসম্পন্ন প্রাচীনতম ফসল কিনোয়া। এই মূল্যবান ফসলটি নতুন আঙ্গিকে এই প্রথম পরীক্ষা মুলক ভাবে চাষ হচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের সমতল ভুমিতে।


এ অঞ্চলের মাটি আবহাওয়া কিনোয়া চাষে উপযোগী বলছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। কৃষকের দাবী স্বল্প খরচে ধানসহ অন্যান্য রবি ফসলের চেয়ে দশগুণ লাভ। তবে দেশে বাজার গড়ে উঠলে এ ফসল বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ এখন সময়ের দাবী। কিন্তু এখনো সেই ভাবে মার্কেট বা বাজার গড়ে উঠেনি।


জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষিতে এখন যত বৈচিত্র্যতা আনছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। এমন উদ্ভাবনী শক্তিতে দিন যতই যাচ্ছে ততই যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। সৃষ্টিশীল মনোভাব নিয়ে কৃষকরাও এখন এগিয়ে চলছে। এ অঞ্চলের সমতল ভুমিতে চা, কফি, ভোজ্যতেল পেরিলা,সুপার সিড চিয়া‘র পর এখন ডানা মেলেছে হাই প্রোটিন সমূদ্ধ নতুন ফসল কিনোয়া। এতে করে গ্রাহকের যেমন রুচির পরিবর্তন হচ্ছে তেমনি করে অধিক হারে লাভবান হচ্ছে কৃষক। এখন নতুন ফসল কিনোয়া চাষে কৃষকদের মাঝে আনন্দ যোগাচ্ছে।

কৃষি অফিস জানায়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস দীর্ঘ ৫বছর ধরে গবেষনা করে বাংলাদেশের আবহাওয়া সহনশীল সুপার ফুড কিনোয়া-১জাত উদ্ভাবন করে মাঠ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে ১ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে উচ্চমূল্যের কিনোয়া। মাগুড়া মাস্টার পাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ১২শতাংশ,পাশের গ্রামের বিহারী ২০শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেছেন। তারা জানান, কিনোয়া এ অঞ্চলে নতুন ফসল। তাই কিনোয়া সম্পর্কে কোন ধারণা ছিলনা। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কান্তি রায়, কিনোয়া চাষে প্রেরণা যোগায়। তিনি বীজ সহয়তাসহ চাষাবাদ পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। কিনোয়া একটি রবি মৌশুমের শীতকালিন ফসল। যা লাগার পর ৭৫থেকে ৮০দিনের মধ্যে উত্তোলণ করা যায়। এ চাষ পদ্ধতি অতি সাধারণ। লাইনটেনে কিংবা বীজ ছিটিয়ে বপন করা যায়। এর চাষবাদে তেমন কোন পরিচর্যা, রোগবালাই নেই। রাসায়নিক সারের প্রয়োজন ছাড়াই শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায়। উৎপাদনেও ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। নামমাত্র খরচ করে প্রতি বিঘায় ৪থেকে ৫মন শস্যদানা ঘরে তোলা যাবে। গাছ দেখতে অবিকল বতুয়া সবজির মত। গাছে নয়নাভিরাম অসংখ্য শস্যদানার সমাহারে থোকা থোকা ফল ধরেছে। এর পাতা মুখরোচক সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়ার জুড়ি নেই। সরকারী, বে-সরকারীভাবে গ্রাহক সৃষ্টির মাধ্যমে বাজারজাত করণে সহায়তা দিলে আগামিতে এ জাতীয় ফসলের বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কান্তি রায় এ ফসল সম্পকে বলেন, কিনোয়া উচ্চমান সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। যাহা মানবদেহের কল্যাণমূলক ক্যালোরি যুক্ত দানাদার খাবার। এটা ভাত, রুটির বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, চিন এমন কি পাশের দেশ ভারতের মানুষ খায়। এবং বিভিন্ন নামিদামী রেষ্ট্ররেন্ট গুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর বাজার জাতকরণ সম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন সুপার সপসহ মার্কেটিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এখন প্রতি কেজি শস্যদানা বিক্রি হচ্ছে ১হাজার থেকে ১২শত টাকা কেজি দরে।


উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন,গতানুগতিক কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে কিনোয়াসহ ভিনদেশী উচ্চমূল্যের নিত্যনতুন ফসল চাষে তৃণমূলের পর্যায়ে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এ উপজেলার মাটি আবহাওয়া কিনোয়া উৎপাদন খুবেই আশাব্যঞ্ছক। কিনোয় হলো হাই প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এটিকে সুপার ফুডও বলা হয়। কিনোয়াতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং লাইসিন সমৃদ্ধ, যা সারা শরীর জুড়ে স্বাস্থ্যকর টিস্যু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিনোয়া আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের একটি উৎস। শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর সুপার ফুড কিনোয়া যা ডায়াবেটিস রোগেিদর জন্য খুবই উপকারী। তিনি আরো জানান, এর চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূরীভূত হবে ও মিলবে দারিদ্র্য থেকে নিরন্তন মুক্তি।

পোস্টটি শেয়ার কারুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপনঃ

রাজনীতি

অপরাধ ও দুর্নীতি

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Mak Institute of Design |